ফ্রি লেকচারশিট এবং ফ্রি রিসোর্স

৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ১২শ শ্রেণি

ফ্রি কোর্সসমূহ

৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ১২শ শ্রেণি

bangladesher orthoniti o boideshik rin rochoona

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক ঋণ

ভূমিকা : বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এদেশের অর্থনীতি গড়ে উঠেছে মানুষের শ্রমে ঘামে ও কর্মে। নদীমাতৃক বাংলাদেশে এখন শুধু ফসলই জন্মে না, এখানেই ঘটেছে শিল্পায়ন, নগরায়ণ। আর মানুষের পেশার পরিবর্তনও ঘটে চলেছে প্রতিনিয়ত। ফলে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ চেষ্টা করে যাচ্ছে। যেহেতু এখনো বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারেনি, তাই জাতীয় উন্নয়নের জন্য বিশ্বের অন্যান্য সম্পদশালী ও উন্নত রাষ্ট্রগুলোর উপর নির্ভর করতে হয়। বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বৃহৎ অংশই বৈদেশিক ঋণের উপর নির্ভরশীল। যেদিন বৈদেশিক ঋণ ছাড়াই বাংলাদেশ তার নিজস্ব অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে পারবে। সেদিনই সূচনা হবে নতুন জয়ের পথ। 

বাংলাদেশের অর্থনীতি : বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এদেশের অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। পূর্বে সচ্ছলতা থাকলেও বর্তমানের বাংলাদেশের জনসংখ্যা সমস্যা প্রবল হওয়ায় অর্থনৈতিক অবস্থায়ও অগ্রগতি তেমন ঘটছে না। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় খুবই সামান্য। ২০১৫ -১৬ অর্থবছরের বাজেট অনুযায়ী এদেশের জনগণের মাথাপিছু আয় মাত্র ১৩১৪ মার্কিন ডলার। উন্নত দেশগুলোতে মাথাপিছু আয় হাজার হাজার ডলারের উপরে।

দেশীয় শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠা করে বেকার সমস্যার সমাধান করার মাধ্যমে এদেশের অর্থনীতি আরো মজবুত করা সম্ভব। বাংলাদেশের সস্তা শ্রম বিদ্যমান থাকায় অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠান স্বল্পখরচে পণ্য উৎপাদনের জন্য এ দেশের বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে চলেছে। অথচ জাতীয় প্রয়োজন ও উন্নয়নের চাহিদার তুলনায় দেশীয় শিল্প-কারখানা পর্যাপ্ত সংখ্যায় গড়ে ওঠেনি। ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি জাতীয় ভিত্তির উপর সুদৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেনি। বাংলাদেশে জনগণকে বিভিন্ন সেক্টরে বা খাতে নিয়োগ করে দেশের অর্থনৈতিক উৎপাদনের বহুগুণে বৃদ্ধি করা যায়। কিন্তু সেই সামর্থ্য দেশে এখনো গড়ে ওঠেনি। জাতীয় উন্নয়ন করতে গেলেই আমাদের বৈদেশিক ঋণের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে সহযোগিতা নিতে হয়। যেহেতু অর্থনৈতিকভাবে দেশ এখন স্বনির্ভর নয়, তাই এসব বৈদেশিক ঋণগ্রহণের প্রয়োজন অবশ্যাম্ভাবী হয়ে উঠেছে। 

বৈদেশিক ঋণ : একটি দেশ যদি জাতীয় উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কথা বিবেচনা করে অন্য দেশের কাছ থেকে কিছু শর্তের ভিত্তিতে অর্থ গ্রহণ করে, তবে ঐ অর্থ গ্রহণকে বলা হয় বৈদেশিক ঋণ। অর্থনৈতিকভাবে উন্নত রাষ্ট্রগুলো অন্যান্য অনুন্নত ও দরিদ্র দেশগুলোকে ঋণ দিয়ে থাকে। যদিও ঋণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের নিজস্ব কিছু সুবিধার বিবেচনাও করতে হয়। আর ঋণগ্রহীতা রাষ্ট্রকেও ঋণের টাকার যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে নিজস্ব অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দিতে হয়। মূলত যেসব রাষ্ট্রে মানুষের আয় খুব কম এবং দারিদ্র, বেকারত্ব-সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক অবস্থা বিপর্যয়ের মুখে, সেসব রাষ্ট্রই বৈদেশিক ঋণের আশা করে। বাংলাদেশকেও জাতীয় উন্নয়নের কথা ভাবতে গেলে বৈদেশিক ঋণের কথা ভেবেই পরিকল্পনা হাতে নিতে হয়। বৈদেশিক ঋণের উপর নির্ভরশীলতার কারণে বাংলাদেশে এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থনৈতিক কাঠামোর রূপদান সম্ভব হয়নি। প্রতিবছরই বাজেট ঘোষণার সময় একটি বড় অংশেই থাকে বৈদেশিক ঋণের উৎস ও পরিমাণের বর্ণনা। বৈদেশিক ঋণ ছাড়া জাতীয় বাজেট ও জাতীয় উন্নয়নের কথা ভাবতে পারা কঠিন হয়ে পড়েছে। 

বৈদেশিক ঋণ ও প্রকার : বৈদেশিক ঋণ বা সাহায্য প্রদানের ধরন অনুযায়ী সাধারণত চারটি ভাগ রয়েছে। যথা :- 

১। দীর্ঘমেয়াদি ঋণ : এই ঋণ ১০ বা ২০ বছরে পরিশোধ করতে হয়।। 

২। নমনীয় ঋণ : যা স্থানীয় মুদ্রায় পরিশোধ করা যায়। এই ঋণ পরিশোধের মেয়াদ দীর্ঘ। আবার এই ঋণ অত্যন্ত কম সুদে পরিশোধ করা যায়। 

৩। অনুদান : এটি আর পরিশোধ করতে হয় না। 

৪। কারিগরি সাহায্য দান : উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সাধারণত কারিগরি সাহায্য প্রদান করা হয়। 

বৈদেশিক ঋণ ও বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন : কোনো দেশ যদি উন্নতি লাভ করতে চাই, তবে সর্বপ্রথম তাকে দারিদ্র বিমোচন করতে হবে। অর্থনৈতিক অগ্রগতির মাধ্যমে দেশের সার্বিক অবস্থার উন্নয়নী হচ্ছে জাতীয় উন্নয়ন। অন্ন, বস্ত্র,বাসস্থানে, শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান প্রভৃতি যখন একটি দেশের নিশ্চিত করা যায়, তখন জাতীয় উন্নয়ন দ্রুত গতিতে ঘটে। তবে প্রথম শর্তই হলো অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা। 

বাংলাদেশ বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই দেশের সম্পদের পরিমাণ সীমিত। দেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই ঋণ গ্রহণ করার জন্য অন্য দেশের দ্বারস্থ হতে হয়। বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গেলে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ ছাড়া উপায়ান্তর থাকে না। বর্তমানে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়নের একটি পূর্ব শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

বাংলাদেশের গৃহীত বৈদেশিক ঋণ : বাংলাদেশ এ পর্যন্ত বহু দেশের কাছ থেকেই বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান গ্রহণ করেছে। ২০১১- ১২ অর্থ-বছরে গৃহীত বৈদেশিক অনুদান ৫৮৮ মার্কিন মিলিয়ন ডলার এবং বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ১৫৩৮ মার্কিন মিলিয়ন ডলার। ২০১২-১৩ অর্থবছরে তা যথাক্রমে ৪৬৪ মার্কিন মিলিয়ন ডলার এবং ১৩৯৯ মার্কিন মিলিয়ন ডলার। সরকার ঘোষিত ২০১৩ – ১৪ বাজেটের হিসাব অনুযায়ী গৃহীত বৈদেশিক ঋণ দেশীয় মুদ্রায় ১৮,৫৬৯ কোটি টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে গৃহীত বৈদেশিক ঋণ ১৮,০৬৯ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাজেট ঘোষিত বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের প্রস্তাব করা হয় ২৪,৩৩৪ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক অনুদান পাওয়া যায় ৫, ৮০০ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭অর্থবছরে বাজেটে বৈদেশিক সহায়তার পরিমাণ ৪৪ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা (প্রায় ৫ হাজার ৫৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) প্রাক্কলন করা হয়েছে। বৈদেশিক সহায়তার মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে প্রকল্প সাহায্য বাবদ ৪০ হাজার কোটি টাকা (প্রায় ৫ হাজার মিলিয়ন মার্কিন ডলার), খাদ্য সহায়তা বাবদ ৪০ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল অংকের বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের যথার্থ ব্যবহারের উপরই নির্ভর করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তথা সার্বিক জাতীয় উন্নয়ন। 

বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণদাতা : বাংলাদেশের উন্নয়নে যারা বৈদেশিক ঋণ প্রদান করে থাকে, তাদের রয়েছে বিভিন্ন সংস্থা যেমন : এইড গ্রুপ। সংস্থাটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পর্যালোচনা করে। বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় দিক বিবেচনা করে তারা সাহায্য প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয়। এরকম দেশ ও সংস্থাগুলো হলো – অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, ইতালি, জাপান, নেদারল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য,যুক্তরাষ্ট্র, আইডিএ, এডিবি, ইফাদ, ইউএন সংস্থাসমূহ, ফোর্ড ফাউন্ডেশন, এশিয়া ফাউন্ডেশন ইত্যাদি। এছাড়া চীন, ভারত, জাপান, কুয়েত, পাকিস্তান, আমেরিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব, স্পেন সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক, ওপেক প্রভৃতি রাষ্ট্র ও সংস্থা বাংলাদেশকে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান প্রদান করে জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। 

বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের ইতিবাচক ভূমিকা : একটি দেশ যখন জাতীয় উন্নয়ন করতে গিয়ে অর্থের অভাবে সামনে এগুতে পারে না, তখন বৈদেশিক ঋণ অনেক বড় সহযোগিতা ভূমিকা পালন করে। অনেক বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন, দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো নির্মাণ, দীর্ঘকালীন কর্মসূচি প্রভৃতি যেসব ক্ষেত্রে  বাংলাদেশের মতো একটি দরিদ্র দেশ নিজস্ব অর্থায়নে অক্ষম, সেক্ষেত্রে বৈদেশিক ঋণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বাংলাদেশে নির্মিত যমুনা বহুমুখী সেতু, প্রস্তাবিত পদ্মাসেতুসহ বহু প্রকল্পে বৈদেশিক সহায়তা বিদ্যমান। বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশের অর্থনীতি দারুনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। তাই অর্থনীতিকে পুনরায় চাঙ্গা করতে বিভিন্ন দেশ আমাদের দেশে বৈদেশিক ঋণ প্রদানে এগিয়ে আসে। একটি দেশের সার্বিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিতকরণে বৈদেশিক ঋণের ভূমিকা অপরিসীম। 

বৈদেশিক ঋণগ্রহণের নেতিবাচক প্রভাব : জাতীয় উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নের জন্য বৈদেশিক ঋণ নেওয়া হয় ঠিকই, কিন্তু অনেক সময় যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে নানা রকম জটিলতা সৃষ্টি হয়। এগুলো রাষ্ট্রকে আরও খারাপ অবস্থার মধ্যে ফেলে দেয়। বৈদেশিক ঋণ গ্রহণে যেসব সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে তা নিম্নরূপ – 

১। বৈদেশিক ঋণ সঠিক সময় ফেরত দিতে না পারলে পরে ঋণের বোঝা আরও বাড়তে থাকে। ঋণ পরিশোধ করার জন্য জনগণের উপর অতিরিক্ত কর আরোপ করে কোষাগারের উন্নতি ঘটাতে সরকার বাধ্য হয়। অর্থাৎ ঋণের প্রকৃত বোঝা সাধারণ জনগণের ঘাড়ে এসে চাপে। 

২। দেশের অনুৎপাদনশীল খাতে যদি ঋণের অর্থ ব্যয় করা হয়, তবে তা নতুন নতুন উপার্জনের পথ সৃষ্টি করে না। বরং সীমাহীন দুর্ভোগ ডেকে আনে। 

৩। সুষ্ঠু তদারকি ও নৈতিকতার অভাবে অনেক সময় ঋণের টাকা সঠিক খাতে ব্যয় না করে অর্থের অপচয় করা হয়। দুর্নীতি, লুটপাটের মতো ঘটনাও হয়। ফলে জাতীয় উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত তো হয়ই, সেই সঙ্গে অর্থনৈতিক পূর্ণগঠন অসম্ভব হয়ে পড়ে। 

৪। বাংলাদেশে দ্বি-দলীয় রাজনীতির কারণে পাঁচ বছর মেয়াদে ক্ষমতাসীন দল বা সরকার অনেক বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করলেও পুরোপুরি পরিশোধ করতে পারে না। ফলে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা পরবর্তী সরকারের উপর সেই অতিরিক্ত ঋণের বোঝা এসে পড়ে। ফলে রাজনৈতিক রেষারেষির কারণে দেশ খুবই ক্ষতির সম্মুখীন হয়। প্রায় ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বহির্ভূত প্রকল্প সাহায্য বাবদ ৪ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা (প্রায় ৫১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। 

৫। বারবার বৈদেশিক ঋণের উপর নির্ভর করার ফলে জাতীয় অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মধ্যে পড়ে। দেশের জনগণকে দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নতিতে এগিয়ে আসার আবেদন না করে যদি বৈদেশিক ঋণের উপর নির্ভরশীলতা বেড়েই চলে, তবে বাংলাদেশের মতো একটি রাষ্ট্র কখনই উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারবে না। 

উপসংহার : দেশের দুর্বল অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে অবশ্যই বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করা প্রয়োজন। সেই ঋণের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে কাঙ্খিত উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ হওয়ায় বৈদেশিক ঋণের উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু জাতীয় উন্নয়নের জন্য যদি বিকল্প নিজস্ব উৎপাদনকে বৃদ্ধি করা না হয়, তবে যতই বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করা হোক না কেন, সেই ঋণের বোঝা দিনদিন বেড়েই চলবে। স্বাধীনতা-পরবর্তী বিগত বছরগুলোতে আমরা যে হারে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করেছি, সেই অনুপাতে কিন্তু উন্নয়ন ঘটেনি। তাই বাংলাদেশকে বৈদেশিক ঋণের উপর অতি নির্ভরশীলতা কাটানোর জন্য সচেষ্ট হতে হবে।