ফ্রি লেকচারশিট এবং ফ্রি রিসোর্স

৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ১২শ শ্রেণি

ফ্রি কোর্সসমূহ

৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ১২শ শ্রেণি

bangladesher pakhi rochona

বাংলাদেশের পাখি 

ভূমিকা : বাংলাদেশ অসংখ্য পাখির উপযুক্ত আবাসস্থল। সকালে এ দেশ পাখির কূজনে মুখরিত হয়। তারপর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাখিরা মনের আনন্দে এদিক সেদিক উড়ে বেড়ায়। সন্ধ্যায় কিচিরমিচির শব্দে চারদিক মুখরিত করে এরা নীড়ে ফিরে আসে। বাংলার সবুজ প্রকৃতি আর মানব জীবনের সাথে পাখি রয়েছে গভীর সম্পর্ক। 

প্রকারভেদ : পাখি সাধারণত দুই ধরনের থাকে। ১) গৃহপালিত পাখি ও ২) মুক্ত পাখি। মোরগ-মুরগি,হাঁস কবুতর, কোয়েল ইত্যাদি গৃহপালিত পাখি। আর মুক্ত পাখির মধ্যে রয়েছে – দোয়েল, কোয়েল, কাক, ময়না, টিয়া, বক, শালিক, টুনটুনি, চড়ুই, বুলবুলি, ঘুঘু, মাছরাঙ্গা ইত্যাদি। পাখিদের মধ্যে আবার কতকগুলো জলচর, স্থলচর আবার উভচরও হয়ে থাকে। কোনো কোনো মুক্ত পাখি বন্য হওয়ার সত্তেও পোষ মানে। ময়না, টিয়া, দোয়েল ও শ্যামা এদের মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশের প্রায় পাঁচ’শ ধরনের পাখি রয়েছে। প্রত্যেক জাতের পাখি তাদের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে চলাফেরা করে। 

স্বভাব : পাখিরা মূলত শান্ত ও নিরীহ প্রকৃতির হয়ে থাকে। সামান্য শব্দে এরা ভীত ও সচকিত হয়। আবার কখনোবা বিপদের আশঙ্কায় উড়ে পালায়। এরা দল বেঁধে থাকতে বেশি পছন্দ করে। কোনো কোনো পাখি একই দেশে বাস করে। আবার কোনো কোনো পাখি বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন দেশে চলে যায়। ডিম পাড়ার সময় হলে পাখিরা গাছের ডালে বাসা তৈরি করে। বেশিরভাগ স্ত্রী পাখি দুটি ডিম পারে এবং স্ত্রী পুরুষ উভায়ে পালা করে কয়েকদিন ডিমে ‘তা’ দেওয়ার পর ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। নবজাতক বাচ্চাকে পাখিরা মুখে করে খাবার এনে খাওয়াই। কোকিল কখনো নিজে বাসা তৈরি করে না। ডিম পাড়ার সময় হলে এরা কাকের বাসায় ডিম পাড়ে। বোকা কাক নিজের ডিম ভেবে ‘তা’ দিয়ে কোকিলের বাচ্চা ফোটায়। চিল, কাক, শকুন, পেঁচা এরা হিংস্র স্বভাবের পাখি। শিক্ষা পেলে টিয়া ও ময়না পাখি মানুষের মতো কথা বলতে পারে এবং বিভিন্ন শেখানো শব্দ বা বাক্য নিজে থেকে বলতে পারে। 

বাংলাদেশর পাখি : পাখিদের জন্য বাংলাদেশ খুবই উপযুক্ত স্থান। এদেশে প্রায় ৫৫০ প্রজাতির বেশি পাখি দেখা যায়। এর মধ্যে ৪০০ প্রজাতির পাখি এদেশেই বসবাস করে এবং বাকিগুলো শীতের মৌসুমে সাইবেরিয়া অঞ্চল থেকে বাংলাদেশে আসে। নিম্নে বাংলাদেশের খুব পরিচিত কয়েকটি পাখির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হলো : 

দোয়েল : দোয়েল হলো বাংলাদেশের জাতীয় পাখি। এরা আকারে ছোট। এদের পালক কালো-সাদায় মিশ্রিত। এরা অস্থিরচিত্ত ও চঞ্চল স্বভাবের। এরা মানুষের বসতবাড়ির ধারে কাছে থাকতে পছন্দ করে। সামান্য শব্দে এরা ভীত ও সচকিত হয় এবং উড়ে পালায়। এরা দলবদ্ধ ভাবে ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসে। অন্য পাখির গানের সুর এরা হুবহু অনুকরণ করতে পারে। 

শ্যামা : শ্যামার গানের গলা ভীষণ মিষ্টি। এরা আকারে দোয়েলের মতো ছোট। তবে লেজ দোয়েলের চেয়ে বেশ লম্বা। 

চড়ুই : চড়ুই মানুষের ঘরের দেয়ালে, কিংবা টিনের চালে বা দালানের ভেন্টিলেটরে বাস করে। ভোর না হতেই এদের কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। এরা আকারে বেশ ছোট। 

কোকিল : কোকিল হলো গায়ক পাখি। সুমিষ্টি ও সুললিত স্বরের জন্য এরা মানুষের কাছে খুব প্রিয়। এরা ভ্রাম্যমাণ। তাই সারা বছর একই স্থানে বসবাস করে না। এরা বসন্ত ঋতুতে উড়ে আসে আবার বর্ষায় অন্যত্র চলে যায়। মূলত এরা কোনো বাসা তৈরি করে না। একমাত্র ডিম পাড়ার সময় হলে এরা কাকের বাসায় ডিম পাড়ে। কাক কোকিলের ডিম না বুঝেই ‘তা’ দিয়ে বাচ্চা ফোটায়, লালন পালন করে। যখন বাচ্চাগুলো বড় হয়, তখন কাক বুঝতে পেরে তাকে তাড়িয়ে দেয়। তবে ততদিনে বাচ্চা কোকিল মোটামুটি একাই জীবনধারণ করতে পারে। 

কাক : কাক কালো রঙের অতি সুপরিচিত ধূর্ত পাখি। এরা কা-কা শব্দে মানুষের ঘুম ভাঙ্গায়। এদের কণ্ঠস্বর কর্কশ এবং বিরক্তিকর। এরা দলবেঁধে ময়লা-আবর্জনা ঘেঁটে খায়। কোনো কাক বিপদগ্রস্ত হলে এরা দল বেঁধে সমস্বরে ডাকাডাকি করে প্রতিবাদ জানায়। কাক মূলত দুই শ্রেণীর হয়ে থাকে। দাঁড়কাক এবং পাতিকাক। দাঁড়কাক আকারে বড় এবং কুচকুচে কালো। পাতিকাক দাঁড়কাকের চেয়ে আকারে একটু ছোট এবং রং হালকা কালো। 

বাবুই : বাবুই হচ্ছে কারিগর পাখি। এরা তাল ও খেজুর গাছের উঁচু শাখায় অতি সুকৌশলে নিজেদের বাসা তৈরি করে। এদের বাসা খুব শক্ত, সুদৃশ্য ও মজবুত। ঝড়-বাদলে এদের বাসা নষ্ট হয় না। দুরন্ত বাতাসেও ছোট বাবুইছানারা বাসার ভেতরে নিরাপদে থাকে। 

ময়ূর : আকাশে মেঘের আবির্ভাব ঘটলে এরা তাদের লেজের সুদৃশ্য দীর্ঘ পেখম মেলে মনের আনন্দে নাচতে থাকে। ময়ূরের পা দেখতে কুৎসিত। স্ত্রী ময়ূরের পেখম থাকে না। 

ঘুঘু : ঘুঘু শান্ত ও লাজুক স্বভাবের। গ্রাম-বাংলার প্রায় সর্বত্রই এ পাখি দেখা যায়। ঠিক দুপুরে গাছের মগ ডাল থেকে এদের সুমধুর ডাক শোনা যায়। এদের মাংস অতি নরম, পুষ্টিকর ও সুস্বাদু। এরা পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকে । এছাড়া ঘুঘু দল বেঁধে চলতে পছন্দ করে। 

টিয়া, ময়না, শালিক, বুলবুলি : এদের গানের গলা মিষ্টি। শিক্ষা দিলে এরা মানুষের স্বর অনুকরণ করতে পারে। এরা অতি সহজে পোষ মানে। তাই বনের মুক্ত পাখি হওয়া সত্ত্বেও অনেকে এদের পোষে। গানের পাখির মধ্যে এদের নাম সর্বাগ্রে উল্লেখযোগ্য। 

মুরগি, হাঁস, কবুতর : এরা গৃহপালিত পাখির মধ্যে অন্যতম। এদের মাংস সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। ডিম ও মাংসের জন্য বাংলাদেশের ঘরে ঘরে হাঁস মুরগি পালন করা হয়। 

কোয়েল : কোয়েল পাখি আকারে অতি ছোট। এরা একটানা অনেক ডিম দেয় বলে এদের পোষে। এদের ডিম আকারে ছোট হলেও হাঁস-মুরগির ডিমের মতোই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর এবং মানবদেহের প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। 

চিল ও বাজপাখি : এরা হলো শিকারি পাখি। এদের দৃষ্টি খুব তীক্ষ্ণ। এরা মানুষের ধারে কাছে বিশেষ থাকে না। তবে যখন তখন ছোঁ মেরে হাঁস-মুরগির বাচ্চা ধরে নিয়ে যায়। 

শকুন : এরা কুৎসিত, ভয়ংকর ও আকারে বেশ বড়। শকুনের ঘাড়ের চামড়ার রং হয় লাল। জীবজন্তুর মৃতদেহ এদের অত্যন্ত প্রিয় খাদ্য। 

সারস, বক, মাছরাঙ্গা : এরা খাল, বিল, নদী বা ডোবার ধারেকাছে থাকে। এরা ছোট ছোট মাছ ধরে খায়। বকের মাংস সুস্বাদু ও পুষ্টিকর বলে কেউ কেউ বক স্বীকার করে। 

কাঠঠোকরা : এরা দেখতে সুন্দর এবং এদের পালক নানা বর্ণে সুসজ্জিত। এদের পায়ের নখ বেশ ধারালো, ঠোট শক্ত। এরা কাঠের বাকল ছিদ্র করে কঠোর তৈরি করে বাসা বানায় এবং ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ ধরে খায়। 

অতিথি পাখি : শীতের সময় বাংলাদেশে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির আগমন ঘটে। এই পাখিগুলো ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষিক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখে। এরা দলবেঁধে বিভিন্ন জলাশয় অবস্থান করে এবং শীত শেষে আবার পুরাতন আবাসস্থলে ফিরে যায়। 

উপসংহার : পাখি হলো প্রকৃতির এক অমূল্য সম্পদ। ভোরে পাখির শব্দে যেমন আমাদের ঘুম ভাঙ্গে, তেমনি সন্ধ্যায় তাদের নীড়ে ফেরার দৃশ্য মনোমুগ্ধকর।

Bangladesher Pakhi Rochona PDF
বাংলাদেশের পাখি রচনা PDF

অন্যান্য রচনা
বর্ষাকাল রচনা
আজি এ বসন্তে
বাংলাদেশের নদ-নদী