ফ্রি লেকচারশিট এবং ফ্রি রিসোর্স

৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ১২শ শ্রেণি

ফ্রি কোর্সসমূহ

৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ১২শ শ্রেণি

facebook

ফেইসবুক

অথবা, একটি অন্যতম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 

ভূমিকা : বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের যুগ। বিজ্ঞান আমাদের প্রতিনিয়ত দিচ্ছে নতুন নতুন সব আবিষ্কার। যা আমাদের বিনোদন ও জীবনযাপন পদ্ধতিকে করে তুলেছে সহজ থেকে সহজতর। বিজ্ঞানের এরূপ একটি বৈপ্লবিক আবিষ্কার হলো ফেইসবুক। যার সাহায্যে মানুষ তার জীবনকে করেছে আরো বেশি গতিশীল ও আধুনিক। ফেইসবুক মূলত একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হলেও এটি বর্তমান প্রজন্মের কাছে বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। 

ফেইসবুক কী : ‘ফেইসবুক’ হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ইন্টারনেটের সাহায্যে পরিচালিত হয়ে থাকে এটি। এটি একটি অ্যাপস দ্বারা পরিচালিত। ইন্টারনেটের মাধ্যমে facebook এর ঠিকানা লগ ইন করে ফেসইবুকে প্রবেশ করতে হয়। এর মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে যে কাউকে বার্তা প্রেরণ করা যায়। বর্তমান প্রজন্মের কাছে এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি এতটা জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এটি ছাড়া যেন জীবনধারণ অসম্ভব। 

প্রতিষ্ঠার ইতিহাস : ফেইসবুকের প্রতিষ্ঠাতা হলেন মার্ক জাকারবার্গ। তিনি যখন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষে পড়েন তখন তৈরি করেন ফেইসবুকের পূর্বসূরি সাইট ফেসম্যাস। পরবর্তী সময়ে তিনি এক অনলাইন ভোটার মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়ে 2014 সালে জানুয়ারিতে নতুন করে সাইটের কোড লেখা শুরু করেন। তা সফল হলে তিনি একই বছর হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিতে দ্যা ফেইসবুক ডটকম – এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর তার সঙ্গে যোগ দেন একজন প্রোগ্রামার, একজন ব্যবসায়িক মুখপাত্র ও একজন গ্রাফিক্স আর্টিস্ট। তাদের সহযোগিতায় মার্ক জাকারবার্গ ফেইসবুকে বেশ জনপ্রিয় করে তোলেন। পরবর্তী সময়ে তারা ব্যবসায়িকভাবে একটি কোম্পানি খুলে ২০০৫ সালে। প্রথমে কোম্পানিটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘দ্য ফেইসবুক ডটকম’। পরবর্তীতে এই কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে নাম দেওয়া হয় ‘ফেইসবুক’ যা বর্তমানে সারা বিশ্বে সবচেয়ে পরিচিত ও জনপ্রিয় মাধ্যম। ফেসবুকের সর্বশেষ তথ্য (২০১৫-এর মার্চ) অনুযায়ী বর্তমান গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১.৪৪ বিলিয়ন এর অধিক। 

ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম : বর্তমানে মোবাইল, কম্পিউটার, ট্যাব ও প্যাড ইত্যাদি দ্বারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফেইসবুক ব্যবহার করা যায়। ফেইসবুক খোলার জন্য সবার আগে দরকার একটি ই-মেইল আইডি (বর্তমানে মোবাইল নাম্বার দিও ফেইসবুক খোলা যায়) এরপর ফেইসবুক এর ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী বা জীবনবৃত্তান্ত এবং একটি পাসওয়ার্ড নির্বাচন করে ফেইসবুক একাউন্ট খোলা যায়। অ্যাকাউন্ট খোলা হলে তা লগ ইন করে প্রয়োজনীয় তথ্য বা ছবি দিয়ে ফেইসবুক সাজিয়ে নিজের মতো করে ব্যবহার করা যায়। তবে এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে অন্য কেউ পাসওয়ার্ড বা ই-মেইল জানতে না পারে। 

ফেইসবুকে সুবিধা : বর্তমান যুগের সবচেয়ে আলোচিত মাধ্যম হলো ফেইসবুক। এর মাধ্যমে মানুষ নানা রকম সুবিধা পেয়ে থাকে। যেমন : যোগাযোগ ক্ষেত্রে, অনুভূতি প্রকাশে, ব্যবসা-বাণিজ্য, জনসচেতনতামূলক বিষয়সহ অসংখ্য ক্ষেত্রে মানুষ ফেইসবুককে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ছোট বড় চাহিদা পূরণ করে থাকে। নিচে ফেইসবুকের সুবিধাগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো – 

> যোগাযোগ ক্ষেত্রে : আমরা আগেই জেনেছি ফেইসবুক একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। বর্তমান প্রজন্মের কাছে যোগাযোগ করার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠেছে এটি। বার্তা প্রেরণের মাধ্যমে, ভয়েস পাঠানো বা ভিডিও কল করার মাধ্যমে ফেইসবুকে যোগাযোগ করা হয়। বর্তমান এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠার অন্যতম কারণ ব্যয় স্বল্পতা, খুবই সস্তায় ইন্টারনেট প্যাকেজ কিনে এটি ব্যবহার করা যায়। 

> অনুভূতি প্রকাশে : বর্তমান ফেইসবুক ব্যবহার কারিগণ এর মাধ্যমে স্ট্যাটাস দ্বারা নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে থাকেন। এতে বিভিন্ন লেখা বা ছবি শেয়ার করে মানুষ তার অনুভূতি প্রকাশ করে থাকেন। এছাড়া পরবর্তী সময়ে অন্য ফেইসবুক বন্ধুরা তাকে লাইক বা কমেন্টের মাধ্যমে তাদের মতামত প্রকাশে বিশেষ সুযোগ পেয়ে থাকেন। 

> ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে : সারা বিশ্বে বর্তমানে ১.৪ বিলিয়নের অধিক মানুষ ফেইসবুক ব্যবহার করে থাকেন। প্রতিনিয়ত মানুষ এর মাধ্যমে তথ্য হালনাগাদ করা সহ অন্যান্য সেবা পেয়ে থাকেন। আর সুবিধাকে পুঁজি করে বর্তমান একটি শ্রেণি ফেইসবুকে নিজের ব্যবসার প্রচার করে এবং ক্রেতার খুব কাছাকাছি আসার সুযোগ পায়। এছাড়া ফেইসবুকের তথ্য অনুযায়ী এর সবচেয়ে বড় আয়ের মাধ্যম হলো বিজ্ঞাপন বাণিজ্য। 

> সংবাদ সংগ্রহে : বর্তমানে ফেইসবুক সংবাদ সংগ্রহ করতেও বিশেষ অবদান রাখে। সারা বিশ্বের অনেক বড় বড় মিডিয়া যেমন : বিবিসি, আল-জাজিরা, সিএমএম, এফপিসহ প্রায় সকল মিডিয়ার রয়েছে ফেইসবুক পেজ। এতে প্রতিনিয়ত প্রায় সকল ধরনের সংবাদ তারা হালনাগাদ করে থাকে। ফলে ফেইসবুক ব্যবহারকারীগণ খুব সহজেই এর সঙ্গে যুক্ত হতে এবং সংবাদ সংগ্রহ করতে পারে। 

> জনসচেতনতা সৃষ্টিতে : ফেইসবুক জনসচেতনতা সৃষ্টিতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্র বা সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো ফেইসবুককে জনসচেতনতামূলক কাজে ব্যবহার করে থাকে। ফলে যেকোনো সামাজিক সমস্যা এবং এর সমাধান সম্পর্কে মানুষ ধারণা লাভের সুযোগ পায়। 

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ফেইসবুক : ফেইসবুক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল মূলত যোগাযোগ মাধ্যমকে সহজতর করার জন্য। বর্তমানে এ ধারা অব্যাহত আছে। সারা বিশ্বের প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যুক্ত আছে। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তরে মানুষ এর সাহায্যে, বার্তা, ছবি, ভয়েস, ভিডিও প্রেরণসহ সরাসরি ভিডিও কল করতে পারে। এছাড়া নানা তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও প্রকাশ করার সুযোগ পায় স্বাধীনভাবে। 

সারা বিশ্বে এর জনপ্রিয়তা : বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাইট হল ফেইসবুক। ফেসবুকের ২০১৫ – এর জরিপ অনুসারে বর্তমানে প্রায় ফেইসবুক ব্যবহারকারী সংখ্যা ১.৪ বিলিয়নের অধিক মানুষ। এছাড়া এর মাধ্যমে যোগাযোগ, তথ্য সংগ্রহ, সংবাদ পাঠ, বিজ্ঞাপন প্রদান করা যায় বলেই মানুষ এর প্রতি প্রবল আগ্রহ দেখায়। 

বাংলাদেশের ফেইসবুক : ২০০৪ সালে ফেইসবুক প্রতিষ্ঠার পর হতে সারা বিশ্বে এর জনপ্রিয় সাইটটি ছড়িয়ে পড়ে। এরই ধারা অনুসারে বাংলাদেশও সাইটটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ১০ লাখ মানুষ এর সঙ্গে যুক্ত আছে। এরমধ্যে প্রায় ৬৫ ভাগ তরুণ-তরুণী। তারা এর মাধ্যমে নানাবিদ কার্যসম্পাদন করে থাকে। এছাড়া বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সামাজিক প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজসহ নানা রকমের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে জনপ্রিয়তার কারণে রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের প্রচার-প্রচারণার কাজে ফেইসবুক ব্যবহারে উৎসাহ দেখাচ্ছে। 

ফেইসবুকের অসুবিধা : আধুনিক বিজ্ঞানের যেমন সুবিধা রয়েছে তেমনি অসুবিধাও রয়েছে। ফেইসবুকও এর ব্যতিক্রম নয়। বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীসহ তরুণ সমাজের একটা বিরাট অংশ এর সঙ্গে যুক্ত। তারা এতে বসে অযথা সময় নষ্ট বা নানা ধরনের অপরাধ কাজে জড়িয়ে পড়ছে। সন্ত্রাসীরা এর মাধ্যমে গোপনীয়তা রক্ষা করে খুব সহজে অপরাধ কর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক জঙ্গিরাও নিরাপদে এ সাইটটি ব্যবহার করে অবাধে আইন বিরোধী কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে – এভাবে চলতে থাকলে সামাজিক অবক্ষয় বৃদ্ধিসহ অপরাধকারীর প্রবণতা আরো মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। তাই সাইবার অপরাধ দমনে রাষ্ট্রগুলোকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে। 

উপসংহার : আধুনিক সভ্যতার শীর্ষে অবস্থান করছে বর্তমান প্রজন্ম। এর পেছনে ফেইসবুকের অবদান নেহাত কম নয়। ফেইসবুক যতদ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে পৃথিবীর আর কোনো ওয়েবসাইট বা আ্যাপস এত দ্রুত প্রসার লাভ করতে পারেনি। এর অন্যতম কারণ যোগাযোগের সহজলভ্যতা। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত এর সুবিধাগুলো গ্রহণ করে অসুবিধাগুলো পরিহার করে যতটা সম্ভব জনপ্রিয় সাইটটির প্রতিষ্ঠার প্রমাণ উদ্দেশ্য রক্ষা করা।