pita matar proti kortobbo rochona

পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য 

ভূমিকা : পিতা-মাতার জন্যই আমরা পৃথিবীর আলোর মুখ দেখেছি, তাঁরাই হচ্ছেন আমাদের জন্মদাতা। মাতা-পিতার মত আপনজন জগতে আর কেউ নেই। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা) বলেছেন “মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশ্ত।” কারণ ভূমিষ্ঠ হওয়ার পূর্বে ও পরে সন্তানের জন্য মা-ই বেশি দুঃখ-কষ্ট স্বীকার করেন। তার সঙ্গে পিতাও। তাদের কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকারের জন্যই সন্তান বড় হয়। সন্তান ভূমিষ্ঠের পর থেকেই পিতা-মাতা তাদের সুখের কথা ভুলে গিয়ে সন্তানের সুখের কথা চিন্তা করেন। সন্তানকে সঠিকভাবে গড়ে তোলেন। এজন্য পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য অনেক বেশি।  

পিতা মাতার অবদান : একমাত্র পিতা মাতার কারণেই সন্তান এ জগতের রুপ-রস, আরাম আয়েস, উপভোগ করতে পারে। প্রতিটি সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার অবদানের কোনো বিকল্প নেই। মা অতি কষ্ট সহ্য করে দশ মাস দশ দিন সন্তানকে তাঁর গর্ভে ধারণ করেন। সন্তান জন্মের পরে মা অসুস্থ ও দুর্বল শরীর নিয়ে সন্তানের সেবা করেন। সর্বক্ষণ মা সন্তানের জন্য চিন্তা করেই থাকে। তার চিন্তার যেন শেষ হয় না। নিজেদের আরাম আয়েশের কথা ভুলে গিয়ে অধিক পরিশ্রম করে সন্তানকে বড় করে তোলেন এবং পড়ালেখা শেখান। এমনকি পিতা-মাতাই সন্তানের খাদ্য যোগাড় করেন। সন্তান যেন সুশিক্ষিত ও সঠিকভাবে গড়ে ওঠে, সেজন্য পিতা-মাতার চেষ্টার অন্ত থাকে না। পৃথিবীর সকল পিতা-মাতা তাঁদের সন্তানকে মানুষের মত মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে চান। যখন সন্তানের কোন অসুখ-বিসুখ হয় তখন পিতা-মাতার চিন্তার শেষ থাকে না। তারা তাদের আহার নিদ্রার কথা ভুলে গিয়ে সন্তানের আরোগ্য লাভের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন এবং সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে দুহাত তুলে দোয়া চান সন্তানের জন্য। পিতা-মাতার এরূপ অবদান অতুলনীয়। 

পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য : নিজেকে সুশিক্ষিত ও সঠিকভাবে গড়ে তুলে পিতা-মাতার মুখ উজ্জ্বল করা সন্তানের কর্তব্য। সন্তান যদি সমাজে সুশিক্ষিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সুনাম অর্জন করতে পারে, তাহলে পিতা-মাতা সবচেয়ে বেশি খুশি হন। পিতা-মাতার সন্তান হিসেবে প্রতিটি ছেলেমেয়েদের মনে রাখা উচিত, বাবা-মা সব সময় সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে সকল অবস্থায় তাদের কল্যাণ কামনা করেন, তাই তাদের উচিত পিতা-মাতার আদেশ-নির্দেশ মেনে চলা। অনেক সময় আমরা পিতা মাতার উপদেশ পালন  করি না। এতে পিতা-মাতা মানসিক কষ্ট ভোগ করেন, যা আমরা ভেবে দেখি না। আমরা যদি পিতা-মাতার আদেশ-নির্দেশ সঠিকভাবে মেনে চলি সেটা যেমন আমাদের জন্য মঙ্গলজনক, তেমনি সমাজের জন্য কল্যাণকর। 

সন্তান চরিত্রবান হলে, জ্ঞানীগুণী বলে সমাজে প্রশংসা লাভ করলে পিতা মাতার ঋণ কিছুটা পরিশোধ হতে পারে। এজন্য পিতা-মাতার মুখ উজ্জ্বল করা এবং তাঁদের গৌরব বাড়ানোর জন্য প্রত্যেক সন্তানের তৎপর হওয়া উচিত। সন্তান যদি পিতা-মাতার অবাধ্য হয় এবং উচ্ছৃঙ্খলতার স্রোতে ভেসে বেড়ায়, তাহলে তার জীবনে সাফল্য অনিশ্চিত। পিতা-মাতার অবাধ্য হয়ে চলা মানে জীবনে ব্যর্থতাকে  বরণ করা। এ কারণে তাদের চারিত্রিক অধঃপতন ঘটবে ও সমাজের কাছে নিন্দার পাত্র হবে। পিতা-মাতা সন্তানের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে তাঁদের লেখাপড়ায় মনোযোগী হতে বলে। সন্তান যদি লেখাপড়ায় ফাঁকি দেয় এবং মানুষ না হয়ে অমানুষ হয়, তবে তারা বড় হয়ে কষ্ট ভোগ করে। 

পিতা-মাতার সেবাযত্ন করা সন্তানের প্রধান কর্তব্য। তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে সাথে সাথে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের সেবাযত্নে বিন্দুমাত্র ত্রুটি যেন না থাকে সেদিকে বিশেষ মনোযোগী হতে হবে। সন্তানের সব সময় এটা মনে রাখা দরকার, শৈশবকালে পিতা-মাতা তাকে মানুষ করে তোলার জন্য যত্ন নিয়েছেন,পড়াশোনার ব্যবস্থা করেছেন এমনকি বড় হয়ে সুখে শান্তিতে বসবাসের জন্য যথেষ্ট চেষ্টা চালিয়েছেন। বৃদ্ধ বয়সে পিতা-মাতা যাতে সুখে-শান্তিতে জীবন কাটাতে পারে সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। যদি কোন সন্তান পিতা মাতার প্রতি অবহেলা দেখায় তবে তার পাপের পরিনাম হবে ভয়াবহ । 

পিতা-মাতার প্রতি সম্মান : পৃথিবীর সকল ধর্মে পিতা-মাতাকে সেবাযত্ন, সম্মান এবং তাদের সন্তুষ্টিলাভের কথা  বলা হয়েছে। পবিত্র কুরআন শরীফে ভক্তি ও শ্রদ্ধার ক্ষেত্রে আল্লাহর পরে পিতা মাতার স্থান নির্দিষ্ট করা হয়েছে। আল্লাহু বলেছেন, “যে পিতা-মাতাকে সন্তুষ্ট করে, সে আমাকে সন্তুষ্ট করে।” হরযত আব্দুল কাদের জিলানী (র), হযরত বায়োজীদ বোস্তামী, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পিতা মাতার বাধ্য ছিলেন। পিতা-মাতার সম্মান রক্ষার দায়িত্ব পালন করার জন্য সকল মানব সন্তানকে সচেতন হওয়া উচিত।

উপসংহার : পিতা-মাতার সন্তানের একমাত্র আপনজন। এমন আপনজন জগতে আর কেউ নেই। অল্প বয়সে যে ব্যক্তি বাবা-মাকে হারায় সে এ জগতে ভাগ্যহীন। পিতা-মাতার আদর,স্নেহ বেহেস্তের শ্রেষ্ঠ  দান। তা যে ব্যক্তি ভোগ করতে পারে, তার জীবনই ধন্য। পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য পালন করার মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ লাভ করে জগতের স্মরণীয়, বরণীয় এবং মর্যাদা লাভ করা যায়।

পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য রচনা PDF Format

অন্যান্য রচনা
বিদ্যালয় দূষণমুক্ত রাখতে আমার করণীয়
শিক্ষামেলা
একুশে বইমেলা

Facebook
Pinterest
Reddit