ভূমিকা : পৃথিবীর সকল দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তারুণ্যের মেধা, শক্তি ও উদ্ভাবনী চিন্তার ওপর। তরুণদের স্বপ্ন, আদর্শ, নীতি-নৈতিকতা এবং কর্ম প্রচেষ্টা আগামীর বাংলাদেশের চেহারা গড়ে তুলতে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ হলো একটি সম্ভাবনাময় দেশ। এ দেশের উন্নয়নের মূল মাধ্যম হলো তারুণ্য।
তরুণদের স্বপ্ন ও ভাবনা : তরুণরা এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই যেখানে শান্তি, উন্নয়ন, সাম্য, সম্প্রীতি এবং সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠিত হবে। এমনকি উন্নত শিক্ষা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে দেশের সকল নাগরিককে সমান সুযোগ সুবিধা দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। তরুণ প্রজন্ম একটি সমৃদ্ধ, টেকসই ও উন্নয়নশীল দেশের স্বপ্ন দেখে। তাদের ভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে–
১. শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন : তরুণরা চায় উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা যা তাদের ভবিষ্যৎ জীবন প্রস্তুত করবে। এমনকি তারা গবেষণা, উদ্ভাবনী এবং প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করতে চাই।
২. উন্নতি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন : তরুণরা চায় প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশ, যেখান থেকে তারা নতুন নতুন জ্ঞান অর্জন এবং সম্ভাবনামায় প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে পারবে।
৩. পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন : তরুণরা পরিবেশ রক্ষায় অবহিত এবং পরিবেশ বান্ধব উন্নয়নের পক্ষে। গাছ লাগানো, পরিবেশ দূষণমুক্ত, প্লাস্টিক বর্জন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা তরুণদের অগ্রাধিকার।
৪. সামাজিক ন্যায়বিচার : তরুণরা এমন একটি বাংলাদেশ চায়, যেখানে সমাজের প্রত্যেকটি মানুষ সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে। নারীর ক্ষমতায়ন, শিশুশ্রম রোধ, দারিদ্র বিমোচন, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির জন্য তারা কাজ করতে চায়।
তরুণদের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা : এদেশের তরুণদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে পদে পদে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়। যেমন: দুর্নীতি, দারিদ্রতা, কর্মসংস্থানের অভাব, চাকরি নিয়োগে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি ইত্যাদি। তবে তরুণদের কদম্য চেষ্টায় সকল বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। তরুণদের দিকনির্দেশনা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং বৈশ্বিক যোগাযোগের সুযোগ বাংলাদেশের উন্নয়নে অধিক ভূমিকা রাখবে।
তরুণদের ভূমিকা :
১. উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ : তরুণরা ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পখাতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করে কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে।
২. নেতৃত্ব : তরুণরা রাজনীতিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সৎ ও আদর্শ নেতৃত্ব দিতে পারে।
৩. রাজনৈতিক অংশগ্রহণ : ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে তরুণদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ এ দেশকে আরো গতিময় ও স্বচ্ছ করবে।
৪. সামাজিক উন্নয়ন : তরুণরা সামাজিক দায়িত্ববোধ ও সুশিক্ষিত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। এমনকি সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
আগামীর বাংলাদেশ : তরুণদের উদ্যোগ, উদ্ভাবন, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ হবে উন্নত, সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ এবং আত্মনির্ভরশীল দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে। তাদের মেধা, মনন, উদ্ভাবনী শক্তি ও সৃজনশীলতাই আগামীর বাংলাদেশের ভিত্তি। তাদের হাত ধরে বাংলাদেশ একদিন বিশ্বদরবারে একটি উন্নত দেশের স্বীকৃতি অর্জন করবে।
উপসংহার : বাংলাদেশের তরুন সমাজ দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের চিন্তা-চেতনা, উদ্যোগ এবং নেতৃত্বের মাঝে লুকিয়ে আছে একটি উন্নত ও স্বপ্নময় বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। এজন্য তরুণদের যদি সঠিক দিকনির্দেশনা এবং সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, তবেই গড়ে উঠবে একটি সোনার বাংলাদেশ।
তারুণ্যের ভাবনায় আগামীর বাংলাদেশ রচনা PDF Format
অন্যান্য রচনা
কর্মমুখী শিক্ষা
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
বাংলাদেশের ইতিহাসে ধানমন্ডি ৩২